প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের একজন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়, মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল ওহাবের ছেলে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। তিন বোনের একমাত্র ভাই পিয়াস ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
সেনাবাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে হাটহাজারীর ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে অনুশীলন চলছিল। এ সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য প্রাণ হারান। একই ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পিয়াসের পরিবার ও স্বজনদের জন্য এই মৃত্যু আরও বেশি মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে তার পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে। কয়েক দিন আগেই তার ঘরে জন্ম নেয় একটি সন্তান। নতুন অতিথিকে ঘিরে পরিবারে যখন আনন্দের পরিবেশ, তখনই ঘটে গেল এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সন্তানকে কোলে নিয়ে পিতৃত্বের আনন্দ উপভোগ করার সময়টুকুও যেন পূর্ণ হলো না তার।
সদ্যোজাত সন্তানটি বাবার স্নেহ ও আদর বোঝার আগেই হারাল তার বাবাকে। একদিকে নবজাতকের আগমন, অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক—দুই বিপরীত অনুভূতি একসঙ্গে নেমে এসেছে পিয়াসের পরিবারে।
চাকরির সুবাদে পিয়াস পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। দেশের সেবায় নিয়োজিত থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। স্বজনদের ভাষ্য, দায়িত্বের প্রতি তিনি ছিলেন আন্তরিক এবং সহকর্মীদের কাছেও ছিলেন পরিচিত মুখ।
পিয়াসের মৃত্যুর খবর নোয়াখালীর কবিরহাটে পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্থানীয়রা জানান, অল্প বয়সে তার এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে কয়েক দিন আগে বাবা হওয়া একজন তরুণের এভাবে চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পিয়াসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। সদ্যোজাত সন্তান, তিন বোন এবং স্বজনদের রেখে পিয়াসের এই অকাল বিদায় তার পরিবারে দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা তৈরি করেছে।



