রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এক্সপ্রেসওয়েতে রেস করতে গিয়ে তরুণের মৃত্যু, রক্তাক্ত বন্ধুকে ফেলে পালাল সঙ্গীরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১১:১২ এএম

এক্সপ্রেসওয়েতে রেস করতে গিয়ে তরুণের মৃত্যু, রক্তাক্ত বন্ধুকে ফেলে পালাল সঙ্গীরা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাকিবুল হাসান (১৯) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তার সঙ্গে থাকা অন্য মোটরসাইকেল আরোহীরা তাকে ঘটনাস্থলে রেখেই চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাচামারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিবুল হাসান মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া মৌহালী এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মানিকগঞ্জ থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল তরুণ ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ১০টার দিকে তারা যাত্রা শুরু করেন। পরে ফরিদপুর থেকে আরও কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর দলটি ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দ্রুতগতিতে চালানোর পরিকল্পনা করে বলে জানা গেছে।

পরে তারা ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতুর দিকে রওনা হন। শিবচরের আড়িয়াল খাঁ সেতু পার হওয়ার পর সাকিবুল দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। একপর্যায়ে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেন। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বান্ধবী আরোহী আক্তার জানান, তারা মানিকগঞ্জ থেকে দৌলতদিয়া হয়ে ফরিদপুরে গিয়েছিলেন। সেখানে আরও কয়েকজন তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে ভাঙ্গায় পৌঁছানোর পর তাকে এবং আরেকজন বান্ধবীকে রেখে অন্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুতগতিতে চালানোর জন্য চলে যান। কিছুক্ষণ পর সাকিবুল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে তারা খবর পান।

আরোহী আক্তারের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সাকিবুলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালানোর সময় সঙ্গী হিসেবে থাকা অন্যরা দুর্ঘটনার পর সেখানে না থেকে চলে যান।

তিনি আরও জানান, সাকিবুল ও তার কয়েকজন বন্ধু নিয়মিত মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিযোগিতামূলকভাবে চালাতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়েছিল। সেখান থেকেই একসঙ্গে মোটরসাইকেল চালানোর আয়োজন করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাকিবুলের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ সেখানে নিহতের কোনো পরিচিত ব্যক্তিকে পায়নি বলে জানিয়েছে।

শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মামুন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণটির মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কয়েকজনের সঙ্গে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতের মরদেহ হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দ্রুতগতিতে চলাচল যে কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, সাকিবুলের মৃত্যু তার আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। অল্প বয়সী তরুণদের মধ্যে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল শুধু চালক নয়, অন্য পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

সাকিবুলের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর সঙ্গীদের ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!