প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘদিনের যানজট ও যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট পর্যন্ত একটি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় মন্ত্রীর বাসভবনে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সময় তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান মাস্টার আবুল কাশেম এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল হাসান মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।
মতবিনিময়কালে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশেষ করে সীতাকুণ্ড অংশে নিয়মিত সৃষ্টি হওয়া যানজট নিরসনে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে থাকা বাঁধের ওপর দিয়ে একটি মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তাদের মতে, এ ধরনের বিকল্প সড়ক তৈরি করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে বড়দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণের দাবিও জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, শিল্পকারখানার পণ্যবাহী গাড়ি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানবাহনের ধীরগতির কারণে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি হচ্ছে বলে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
প্রতিনিধিদের এসব প্রস্তাব ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সাক্ষাৎ শেষে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উল্লেখ করে মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে সীতাকুণ্ডের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির সরবরাহ লাইন সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবিও জানানো হয়।
এ সময় নাগরিক সমাজের নেতারা সীতাকুণ্ডের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং জনসাধারণের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। মন্ত্রী তাদের বক্তব্য ও দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করে। ফলে মহাসড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রাবাড়ী থেকে সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ পথে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যারও উল্লেখযোগ্য সমাধান হতে পারে।



