প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ঢাকার রাস্তায় গভীর রাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের সঙ্গে অচেতন অবস্থায় এক তরুণীকে দেখতে পাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী দাবি করেছেন, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি নিজেই মদ পান করেছিলেন। পরে মদ্যপ অবস্থায় তিনি পরিচিত দুই যুবককে ফোন করে ডেকে নেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টঙ্গী থানায় নেওয়া হয়। এ সময় তার বোন ও দুলাভাইও থানায় উপস্থিত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটির পুরো বিষয় পরিষ্কার করতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবককে শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের অপরাধ উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা ও মানসিক চাপের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিজ বাড়িতে গিয়ে তিনি মদ পান করেন। এরপর মদ্যপ অবস্থায় ওই দুই যুবকের সঙ্গে বের হন।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তরুণী দাবি করেন, তাকে কেউ জোর করে মদ পান করাননি। মানসিক অস্থিরতার কারণে তিনি নিজেই মদ পান করেছিলেন। এরপর তিনি পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ফোন করেন। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে তাকে নিয়ে যান।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে থাকা ওই দুই ব্যক্তিকে তিনি চাচা হিসেবে চিনতেন। তিনি জানান, অচেতন হয়ে পড়ার পর তাদের দেখতে পেয়ে ফোন করেছিলেন। ফোন পেয়ে তারা তাকে উদ্ধারের জন্য সেখানে আসেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলেও পুলিশের কাছে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে তার একাধিক বিয়ের বিষয়ে যেসব তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোও অস্বীকার করেছেন তরুণী। তার দাবি, সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এসব বিষয় নিয়েও তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও সন্দেহ তৈরি হওয়ায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তারা কেন গভীর রাতে তরুণীকে নিয়ে রাস্তায় ছিলেন, কীভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল এবং ঘটনাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (২৬ আগস্ট) গভীর রাতে। আনুমানিক রাত ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর দিকে একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখা যায়। ওই সময় ওমরাহ শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটির গতিবিধি লক্ষ্য করেন।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক একজন তরুণীকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি ছিল এবং শরীর অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। এ দৃশ্য দেখে ওই ব্যক্তি তরুণী জীবিত নাকি অচেতন—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীর বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন একটি চিত্র সামনে এসেছে। এখন তার বক্তব্যের সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বক্তব্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাদের সন্ধান পাওয়ার পরই রাতের ওই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের সত্যতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



