প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
মহাসড়কে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবিতে জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে শ্রমিক সংগঠন। নান্দিনা বাজার এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে হামলা ও ভাঙচুর এবং চালক-সহকারীদের মারধরের অভিযোগের পর বুধবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ পথে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, বুধবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজার এলাকায় রাজীব পরিবহনের দুটি বাস থামিয়ে ভাঙচুর করা হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, হামলার সময় বাসের চালক ও সহকারীদের মারধর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছে থাকা যাত্রাপথের নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার পর পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ে রাতে জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সেখানে চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জামালপুর-ঢাকা পথে বাস না চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য, মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চালক ও সহকারীরা হামলার শিকার হলে তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। যাত্রী পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চালানো সম্ভব নয়। তাই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাসের চালকও হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, নান্দিনা বাজার এলাকায় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই তাদের বাসে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা গাড়ি চালাবেন না বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জামালপুরের আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের ভিড় দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনেকেই বিকল্প যানবাহনের দিকে ছুটছেন। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও যাত্রীদের অনেকে জানিয়েছেন।
এর আগে নান্দিনা এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল ও সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের প্রতিবাদ কর্মসূচির খবরও পাওয়া যায়। ওই কর্মসূচিতে বাসের চলাচল বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের অনুমতিপত্র বাতিলের দাবি জানানো হয়েছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই দুটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পথে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।



