প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ‘যুব ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনার আলোচনা চললেও এরই মধ্যে শুধুমাত্র যুবসমাজের জন্য একটি স্বতন্ত্র ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নতুন ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করতে আগ্রহী হলেও প্রয়োজনীয় জামানত, আর্থিক সক্ষমতা কিংবা ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার অভাবে তারা সহজে ঋণ পান না। ফলে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ শুরু হওয়ার আগেই থেমে যায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তরুণবান্ধব একটি বিশেষায়িত ব্যাংক গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত ব্যাংকের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোগ, আত্মকর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সম্ভাব্য ‘যুব ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার আগে এর কার্যকারিতা, অর্থায়নের উৎস, পরিচালন কাঠামো, নীতিমালা এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের সীমিত পরিসরে প্রাথমিক অর্থসহায়তা দেওয়া হয়। তবে এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। যদিও পুরো উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করা হবে।
বর্তমানে দেশে কৃষি, প্রবাসী কল্যাণসহ কয়েকটি বিশেষায়িত ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই মূলধন ঘাটতি, খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক সংকটের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফলে নতুন বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুশাসন, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা, স্বচ্ছ পরিচালনা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ‘যুব ব্যাংক’ দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজ করবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে।



