প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করে দীর্ঘপথে ভ্রমণের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে রাশেদ খাঁন এসব অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের ওই নেতার ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লংড্রাইভে গিয়েছেন। তবে গাড়িটি কীভাবে তাঁর কাছে এলো, সেটি নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কারণে গাড়িটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল কি না, অথবা কোনোভাবে গাড়িটির মালিকানা বা ব্যবহারাধিকার পরিবর্তন হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক আলোচনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও সম্পদ দখল করার বিষয়ে কথা বলতেন। সাম্প্রতিক গাড়ি ব্যবহারের ঘটনাকে তিনি সেই বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে পাটওয়ারীর উদ্দেশ্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক লংমার্চ নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এবং জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রত্যাশিত মাত্রায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং কর্মসূচির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, ওই লংমার্চের আড়ালে শেখ হাসিনাকে আগামী ডিসেম্বর দেশে ফিরিয়ে আনার অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এ জন্য কর্মসূচিতে উসকানিমূলক স্লোগান এবং লাঠিসোঁটা বহনের অভিযোগও করেন তিনি। তবে এগুলোও তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; এ বিষয়ে আয়োজক পক্ষের পাল্টা বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে কুমিল্লা ও ফেনীতে পথসভা শেষে কর্মসূচিটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, জনদুর্ভোগ কমানো, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
লংমার্চে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং কর্মসূচির বক্তব্য নিয়ে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রাশেদ খাঁনের গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানতে চেয়েছেন, তাঁর উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি সাংগঠনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।
তবে এখন পর্যন্ত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে এ নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি, দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নেতাদের বক্তব্যকে ঘিরে এমন অভিযোগ নতুন নয়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বর্তমান অভিযোগের ক্ষেত্রেও একইভাবে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।



