রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাসনাতের বক্তব্য ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তেজনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

হাসনাতের বক্তব্য ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তোলার পর সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতন, গণপিটুনি এবং পুলিশের ওপর হামলার পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আগের ছয় মাসের তুলনায় বর্তমান সময়ে কিছু ক্ষেত্রে অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে। এসব পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কতটা সফল হয়েছে, তা জানতে চান তিনি।

এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাসনাত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে গান-বাজনা, সিনেমা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে বিধিনিষেধ বা বাধার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানতে চান, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কতটা সফল হয়েছেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসনাতের প্রশ্নের ধরন নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না—এটি এক ধরনের প্রশ্ন, আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল না থাকা বা সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিষয়টি ভিন্ন বিষয়। সংসদে উপস্থাপিত বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যানের উৎস ও ভিত্তি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং এর প্রভাব দৃশ্যমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা সংসদে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুরু হয় প্রতিবাদ। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের একটি মাদরাসা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে জেলার মানুষ ও স্থানীয় বাস্তবতাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণে তাঁরা হাসনাতকে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার পর শনিবার ও পরবর্তী সময়ে দলটির সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকেও প্রতিবাদকারীদের দাবির বিষয়ে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির পরবর্তী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ফলে সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তোলা একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, অন্যদিকে কর্মসূচি প্রতিহতের হুঁশিয়ারি—দুই পক্ষের অবস্থানে জেলার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!