প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি ট্রাকে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ টন ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও র্যাবের যৌথ দল। এ সময় ট্রাকে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, জব্দ করা জিরার পক্ষে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার মো. এম ফয়সাল আবীর, রাজশাহীর বিমানবন্দর এলাকার আজিজুল হাকিম এবং একই এলাকার হাবিবুর রহমান। তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে সিলেট থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাক ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পথে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় যৌথ টহল দলের সদস্যরা ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় ট্রাকে বিপুল পরিমাণ জিরা পাওয়া যায়।
পণ্যটির বৈধ আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে ট্রাকে থাকা ব্যক্তিরা তা দেখাতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে। পরে জিরাগুলো জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে এসব জিরা ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরাইল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রাকটি তল্লাশির জন্য থামানো হয়েছিল। ট্রাকে থাকা জিরার বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলেও তা দেখাতে না পারায় পণ্যগুলো জব্দ করা হয়। জব্দ করা জিরা ও ট্রাকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বলে জানান তিনি।
অভিযানের পর আটক তিনজনকে সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জব্দ করা জিরাগুলো পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তপথে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এর অংশ হিসেবেই সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় চলাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে জব্দ হওয়া জিরার প্রকৃত উৎস, বাংলাদেশে প্রবেশের পথ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিরা কীভাবে এসব পণ্য সংগ্রহ করেছেন এবং কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়েও আইনগত প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই করা হবে।
অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্য বাজারজাত হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে অনুমোদিত আমদানিকারকদের ব্যবসায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ পথে পণ্য আনার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানে জব্দ করা জিরা বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া শেষে এসব পণ্যের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে জব্দ করা পণ্যগুলো অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কি না এবং এর সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা কতটা—তা তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত হবে।



