রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তীরে এসে ডুবল কোটি টাকার পণ্য বোঝাই নৌকা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

তীরে এসে ডুবল কোটি টাকার পণ্য বোঝাই নৌকা

ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তিতাস নদীতে বিপুল পরিমাণ পণ্য নিয়ে একটি নৌকা ডুবে গেছে। সোমবার সকালে উপজেলার বড়বাজার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নৌকাটিতে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি বিভিন্ন ধরনের পণ্য ছিল, যার মোট মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। তবে দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জগৎবাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে একটি বড় নৌকা আখাউড়ার বড়বাজার ঘাটের দিকে আসছিল। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নৌকাটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে নৌকাটি একটি মাছ ধরার নৌকার সঙ্গে ধাক্কা খায়।

ধাক্কার পর ভারসাম্য হারিয়ে পণ্যবাহী নৌকাটি কাত হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই উল্টে নদীতে ডুবে যায়। এতে নৌকায় থাকা বিপুল পরিমাণ পণ্য পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, নৌকাটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মালামাল ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পণ্য বহনের কারণেও নৌকাটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

নৌকাডুবির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ডুবে যাওয়া নৌকা এবং নদীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য সকাল থেকেই কাজ শুরু করেন তারা। নদীর তীর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্নভাবে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচে থাকা পণ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বড়বাজারের ইজারাদার লুৎফর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, নৌকাটিতে বড়বাজার ও সড়কবাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের পণ্য ছিল। এর মধ্যে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি ছাড়াও আরও বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিল। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি ধারণা করছেন, নৌকায় থাকা সব পণ্যের মোট মূল্য দেড় কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

নৌকাডুবির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেকের পণ্যই নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কতটা মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যত বেশি সম্ভব পণ্য উত্তোলনের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদীপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মালামাল বহন এবং প্রবল স্রোতের সময় নৌযান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয়দের মতে, তিতাস নদীর বিভিন্ন অংশে স্রোতের তীব্রতা বাড়লে পণ্যবাহী নৌযানগুলোকে ঘাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। পাশাপাশি নৌযানে ধারণক্ষমতার বেশি পণ্য তোলা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজরদারি প্রয়োজন। এতে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

বর্তমানে উদ্ধারকারী শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন নৌকাটি এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া পণ্য উদ্ধারে ব্যস্ত রয়েছেন। উদ্ধারকাজ শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!