প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
বিএনপিকে এক দফার আন্দোলনের পথে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বিএনপি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক দল। দীর্ঘদিন ধরে দলটি রাজপথে আন্দোলন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে এক দফার আন্দোলনের হুংকার দেওয়া ঠিক হবে না।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে বিরোধী দল এমন কোনো দিন পার করেনি, যেদিন তারা কোনো না কোনোভাবে আন্দোলন কিংবা কর্মসূচি পালন করেনি। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। এখন সেই আন্দোলনকে এক দফার দাবিতে পরিণত করার যে আলোচনা চলছে, সেটি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ফলে রাজপথের আন্দোলন কীভাবে করতে হয়, সে অভিজ্ঞতা দলটির রয়েছে। এ কারণে পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের বক্তব্যের মধ্যে তেমন কোনো মৌলিক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না। দেশের সবাই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশ পরিচালনায় কাজ করছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করেছে। এসব কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে এক দফার দাবিতে রূপ নিলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে একটি দেশের সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছে। এ সংকট দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার যদি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এসব সংকট সমাধানে কার্যকরভাবে কাজ শুরু করত, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি আরও দ্রুত সম্ভব হতো। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটকে সামনে রেখে যে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, সেটির সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয় বানানোর আগে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা দরকার। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো মৌলিক সেবার ঘাটতি দূর করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংঘাতের পরিবর্তে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।



