প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। তবে সমালোচনার নামে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে গালিগালাজ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক বিতর্কে যুক্তি, তথ্য ও দায়িত্বশীল ভাষার ব্যবহার থাকা প্রয়োজন। সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে বিরোধী দলের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে সেই সমালোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা অশালীন বক্তব্যে পরিণত হলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষ্য, অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে গালিগালাজ করা আইনের দৃষ্টিতেও অপরাধ।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের চর্চা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার যেমন জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে, তেমনি বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে তা যুক্তিসংগতভাবে তুলে ধরতে হবে। সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিরোধী দলের সমালোচনার অধিকারকে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র বারবার সংকটের মুখে পড়বে। উচ্চ আদালত, সংবাদমাধ্যমসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ও শক্তিশালী থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বেচ্ছাচারিতা ঠেকানো সহজ হবে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে বাস্তব চিত্র পুরোপুরি বোঝা যাবে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকে ঘিরে অস্থিরতা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে বাধার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটিও সংকটকে আরও জটিল করেছে।
তিনি দাবি করেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস টার্মিনালের ত্রুটি মেরামতের কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
রিজভীর মতে, বর্তমান সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা না বাড়িয়ে সরকার, বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষ—সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকটের সমালোচনার পাশাপাশি এর বাস্তবসম্মত সমাধানের পথও দেখাতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর ও স্থায়ী করতে হলে রাজনৈতিক সহনশীলতা বাড়াতে হবে। ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা ও গালিগালাজের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব রয়েছে। এজন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।



