রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকট কাটবে: রিজভী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সংকট কাটবে: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

চলমান গ্যাস সংকট আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়ির রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর তিন শ ফিট এলাকায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রিজভী। এ সময় তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও এর যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে থাকা গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামোয় যে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সেটি মেরামতের কাজ এগিয়েছে। সেখানে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ ও মজুত কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে ধীরে ধীরে সংকট কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার চুলা ঠিকমতো জ্বলছে না। শিল্পাঞ্চলেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের রান্নাবান্নার প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি মিল-কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করেছে বলেও জানান রিজভী। তাঁর দাবি, দ্রুত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বাজেটে নির্ধারিত অর্থের বাইরে আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার নিষ্ক্রিয় নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সংকটের পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টিও উঠে আসে। যুদ্ধ ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওই অঞ্চলের জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হলে তার প্রভাব বিভিন্ন দেশের বাজারে পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রিজভী এটিকে একটি বৈশ্বিক সংকট হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন ও সমালোচনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হলে সংকটের প্রকৃত কারণ জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তবে সংকটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হবে। তাঁর দাবি, জনগণের স্বার্থকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর ওই এলাকায় একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন তিনি। কর্মসূচিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রিজভী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকা জলাভূমি, খাল ও নদী পুনরুদ্ধার এবং দূষণমুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ও বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ যাতে নদী-নালা ও জলাশয়ে গিয়ে পানিদূষণ না ঘটায়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশু-কিশোরদেরও নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করার কথা বলেন তিনি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে, একদিকে জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাতে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ—দুই বিষয়েই বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!