প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান জানানোর দাবিকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।
এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে সরকার জাতির সঙ্গে করা অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। একই সঙ্গে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংসদে বিভিন্ন বিল পাসের সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া মতামতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন দলটির আমির। তিনি বলেন, কয়েকটি বিষয় ছাড়া তাদের দেওয়া অধিকাংশ মতামত সরকার বিবেচনায় নেয়নি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার সহজে স্বেচ্ছাচারিতা করার সুযোগ পাবে না। তার মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় পরিস্থিতি একপর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের দিকে গড়িয়েছিল। একইভাবে বর্তমান সময়ে জনগণের ভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে তারা সেটি মেনে নেবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেন ডা. শফিকুর রহমান। তার ভাষ্য, সরকার জনগণের স্বার্থে ভালো কোনো সিদ্ধান্ত নিলে জামায়াতে ইসলামী তা সমর্থন করবে। অন্যদিকে কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড জনগণের স্বার্থবিরোধী হলে তার বিরোধিতা করা হবে এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
এ সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে নতুন একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি। তার অভিযোগ, আগের বাহিনীর সদস্য ও কার্যক্রমের বড় অংশ অপরিবর্তিত রেখে শুধু নতুন কাঠামো বা পরিচয়ে বাহিনী গঠন করা হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সম্পদ বণ্টনসংক্রান্ত আইন নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তার দাবি, ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে সম্পদ বণ্টনের আইন করা হয়েছে। এ ধরনের আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সব মিলিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড, সংস্কার বাস্তবায়ন, জনগণের ভোটের রায় এবং বিভিন্ন আইন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। এরই মধ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় লং মার্চের ঘোষণা দেওয়ায় দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। কর্মসূচিতে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা হয়, সেদিকেও রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।



