রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১১:২৪ এএম

কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির

সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে সমালোচনা কিংবা কটূক্তি হলেও তার পাল্টা জবাব না দিয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কেউ তাকে অযথা গালাগাল করলেও এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন না; বরং এটিকে তিনি নিজের জন্য লাভজনক মনে করেন।

শনিবার ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা, সমালোচনা ও কটূক্তি দেখা যায়। তাঁর বিরুদ্ধেও এমন মন্তব্য করা হয়। তবে এসবের জবাবে একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, কেউ যদি নেতিবাচকভাবে সমালোচনা করেন, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। সমালোচনার মধ্যে সত্যতা থাকলে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দেওয়াই উত্তম। প্রতিপক্ষ যে ভাষায় কথা বলছে, একই ভাষায় পাল্টা কথা বললে নিজেদের মধ্যে পার্থক্য আর থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে তিনি রূপক অর্থে ‘ক্ষেপণাস্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের আক্রমণ এলেও তিনি তা সহ্য করবেন এবং এর জবাবে কাউকে পাল্টা আক্রমণ করবেন না।

জামায়াত আমির বলেন, মানুষের মতপ্রকাশের ধরন ভিন্ন হতে পারে। কেউ সমালোচনা করতে পারেন, কেউ প্রশংসা করতে পারেন, আবার কেউ অপ্রয়োজনীয়ভাবে গালিও দিতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি কাউকেই অসম্মান করতে চান না। গালি দিলেও সম্মান দেখানোর নীতিতে থাকার কথা জানান তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে আসা কটূক্তিকে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে দেখছেন না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কেউ তাকে অযথা গালি দিলে সেটিও তিনি সহ্য করবেন। তাঁর ভাষায়, এর মাধ্যমে তাঁর কিছু গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি। মতের অমিলকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত না করে যুক্তি ও ভদ্র ভাষায় মত প্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে; তবে সেই ভিন্নমত প্রকাশের সময় শালীনতা ও সংযম বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে সমালোচনার জবাবে প্রতিশোধমূলক আচরণ না করে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!