প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কুমিল্লার দাউদকান্দি হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রবেশ করেছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিকে ঘিরে জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশাল গাড়িবহর নিয়ে নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানে জোটের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে সকাল সোয়া ৮টার দিকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় গাড়িবহর। পথে বিভিন্ন স্থানে জোটের নেতাকর্মীরা গাড়িবহরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চের গাড়িবহরটি বিকেল ৪টার মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর নির্ধারিত পথ ধরে বহরটি চট্টগ্রাম নগরের দিকে এগিয়ে যাবে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের সমর্থকরাও এতে যুক্ত হচ্ছেন।
জোটসংশ্লিষ্ট নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেতৃবৃন্দ অবস্থান নিয়েছেন। লংমার্চটি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘীর ময়দানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লংমার্চের মাধ্যমে জোটটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের অবসান। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দলীয়করণ বন্ধের দাবিও তুলে ধরেছে জোটটি। তাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের পথজুড়ে জোটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর লালদিঘীর ময়দানে আয়োজিত কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। সেখানে তাদের দাবিগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কেও ঘোষণা আসতে পারে।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামমুখী সড়কে নেতাকর্মীদের গাড়িবহরের কারণে বিভিন্ন স্থানে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কর্মসূচির সার্বিক পরিস্থিতি ও যান চলাচলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এই কর্মসূচি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং জোটের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে।



