রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ করার দাবি জামায়াত আমিরের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ করার দাবি জামায়াত আমিরের

ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি দ্রুত পূরণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও আলাদা বিভাগের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের দাবিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি নতুন নয়; ১৯৯৪ সাল থেকেই এ দাবি চলে আসছে। তাই এ বিষয়ে আর দীর্ঘসূত্রতা না করে দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কুমিল্লাকে বিভাগ করার বিষয়ে অতীতে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও কুমিল্লাকে বিভাগ দেওয়ার কথা বলেছে। যদি সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ কী—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিভাগীয় কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন শফিকুর রহমান। তার বক্তব্য, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও পৃথক বিভাগ চান এবং তাদের সেই দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে কুমিল্লার বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি যেহেতু বহু বছর ধরে চলে আসছে, তাই এটি আগে বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

কুমিল্লার নামের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিছু রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বিভাগ গঠনের বিষয়টি বিলম্বিত করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, কোনো জেলার নাম বা ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে একটি অঞ্চলের মানুষের প্রতি বিরূপ আচরণ করা হলে সেটি ওই এলাকার জনগণের জন্য অপমানজনক হতে পারে।

পথসভায় কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। বিদ্যমান অবকাঠামো, ইপিজেড ও আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যদি বিমানবন্দরটি চালু করা জনস্বার্থে উপযোগী হয়, তাহলে সেটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তবে তার মতে, এর আগে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি পূরণ করা জরুরি।

কুমিল্লাকে বিভাগ করা হলে স্থানীয় মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তিও কমবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজের জন্য কুমিল্লার মানুষকে চট্টগ্রামে যেতে হয়। বিভাগীয় মর্যাদা পেলে এসব কাজের বড় একটি অংশ স্থানীয়ভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। তিনি জানান, ঢাকার পর পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে লংমার্চ কর্মসূচি নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে বড় সমাবেশ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

লংমার্চের মাধ্যমে দাবিগুলো আদায়ের জন্য জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকার সমাবেশ শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হবে না; দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই তা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি কুমিল্লার মানুষকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণের বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি প্রয়োজন।

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত লংমার্চের অন্যতম দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়। শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কুমিল্লায় পথসভায় শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর বিভাগ বাস্তবায়নের পুরোনো দাবি আবারও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে বৃহত্তর নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ করার দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে। এখন সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!