রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের জেরে অধিবেশনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত আইন নিয়ে বিরোধীদল শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের আলোচনায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

রোববারের অধিবেশনে তিনটি বিল নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিরোধীদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আপত্তি তুলে ধরা হয়। তাদের বক্তব্য ছিল, গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এসব আইন চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলের কয়েকটি বিধান নিয়ে তারা ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন তোলেন।

বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা দাবি করেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বিলটি আরও যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর অনুমোদনের পক্ষে মত দেন।

অন্যদিকে আইনমন্ত্রী বিলটির পক্ষে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধন মুসলিম আইনের হেবা ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। বরং সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখলের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি এতে গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; দেশের সব নাগরিকের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হবে।

প্রস্তাবিত সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, বাবা-মা বা নির্দিষ্ট যোগ্য দাতা কাউকে সম্পত্তি দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার ধরে রাখতে পারেন—এমন আইনি নিশ্চয়তা তৈরি করা। বিদ্যমান আইনে এ ধরনের আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত না থাকায় নতুন বিধান আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়েও সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে গুমকে স্বতন্ত্র ও গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সুরক্ষা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান আইন বাতিল করে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য নতুন আইনি ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদীয় পর্যায়ে বিলটি পরীক্ষা করে কিছু পরিবর্তনের সুপারিশও করা হয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে বিরোধীদলের আপত্তি অব্যাহত থাকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরপর অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিরোধীদলীয় সদস্যরা।

বিরোধীদলের ওয়াকআউটের পরও সংসদীয় কার্যক্রম এগিয়ে যায় এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। ফলে তিনটি আইন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক ও সংসদীয় বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এদিকে এর আগে বিল তিনটি সংসদে উত্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করে। এসব প্রতিবেদন নিয়েও সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতবিনিময় ও বিতর্ক হয়েছিল।

বিরোধীদলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, তিনটি আইন নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনগুলোর প্রয়োগ, কার্যকারিতা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে সামনে আরও আলোচনা হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!