প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
নেপালে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি সহায়তায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই অর্থ বন্যাকবলিত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীর হাতে সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম আনুষ্ঠানিকভাবে চেকটি হস্তান্তর করেন।
এ সময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান বলেন, দুর্যোগের কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। নেপালের বন্যায় যারা ঘরবাড়ি, জীবিকা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ হারিয়েছেন, তাঁদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতেই এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের এই উদ্যোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক মানবিক সংহতির প্রকাশ।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মো. রফিকুল কবির, কোষাধ্যক্ষ ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম এবং তহবিল সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এস. এম. হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। সোসাইটির তহবিল সংগ্রহ বিভাগের উদ্যোগেই এই অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।
নেপালে সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগে বহু মানুষ প্রাণ হারানোর পাশাপাশি অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবিকার উপকরণ হারিয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মানবিক সহায়তাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
এর আগে নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও দেশটির দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে রেড ক্রিসেন্টের এই সহায়তা নেপালের জন্য বাংলাদেশের বৃহত্তর মানবিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতারই আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, নেপালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণে প্রদত্ত অর্থ কাজে লাগবে। বিশেষ করে দুর্যোগের পর খাদ্য, নিরাপদ পানি, আশ্রয় ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুর্যোগের সময় প্রতিবেশী দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।



