রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪৪

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৪৪

ফাইল ছবি

নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক এই বন্যার সূত্রপাত হয়। প্রবল স্রোতে ভোতে কোশি নদীর পানি নেপালের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পানির তোড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু। পাশাপাশি একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়ে। দুর্গম অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ৩৬০টি মরদেহ পাওয়া গেছে। নাওয়ালপরাসি পশ্চিম জেলায় ২৩০টি এবং নাওয়ালপরাসি পূর্ব জেলায় ২২২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নুয়াকোট, রাসুওয়া, গোরখা, ধাদিং ও তানাহুন জেলা থেকেও মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ৭৫৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৮৫ জন শিশু। আরও ৫০১টি মরদেহের কিছু অংশ এখনো শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকার কারণে অনেক মরদেহের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের পর ১ হাজার ৩০টি মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৯৬টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগের মধ্যেও উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার খবর এসেছে। নুয়াকোট জেলার বিদুর শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি চারতলা ভবনের ওপরের অংশ থেকে ৬০ বছর বয়সী চান্দিকা শ্রেষ্ঠকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি টানা ১০ দিন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা ছিলেন। অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য আকাশপথে ত্রিশূলীতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নেপালের দুর্গত এলাকাগুলোতে এখনো নিখোঁজদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যাপক তৎপরতা চলছে। বন্যার ভয়াবহতায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই দুর্যোগের প্রভাবে সীমান্তের ওপারেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!