প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হওয়ার পর মৃত বলে ধরে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যখন আনুষ্ঠানিকভাবে শোক পালন শুরু করেছিলেন, তখনই মিলল অবিশ্বাস্য এক খবর। নিখোঁজের ১০ দিন পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ নামে এক বৃদ্ধাকে।
নেপালের বেত্রাওয়াতি এলাকার নিজ চারতলা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন তিনি। ভয়াবহ বন্যার পানি ও কাদার স্রোতে বাড়িটি প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে একটি সরু ফাঁকা জায়গায় আটকে থেকেই এতদিন প্রাণে বেঁচে ছিলেন ওই নারী।
শনিবার পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল বেত্রাওয়াতি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছিল। ধ্বংসস্তূপের আশপাশে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চালানোর একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে ক্ষীণ আওয়াজ শুনতে পান। মনোযোগ দিয়ে শোনার পর তারা বুঝতে পারেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত অবস্থায় সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন।
পুলিশ ও উদ্ধারকারীরা জানান, ভেতর থেকে ‘বাঁচাও’ শব্দ শোনার পর দ্রুত ওই স্থানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টার পর ধ্বংসস্তূপের একটি সংকীর্ণ ফাঁকা জায়গা থেকে শ্রেষ্ঠকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন তারা।
উদ্ধারের পর তাকে দ্রুত সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পরও তাকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকারীদের মধ্যেও স্বস্তি ও আশার সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানিয়েছেন, তিনি শ্রেষ্ঠের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আর জীবিত পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। এমনকি তার মৃত্যুর আশঙ্কায় ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করেছিলেন তারা। সেই অবস্থায় তাকে জীবিত উদ্ধারের খবর পরিবারের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন হয়ে ওঠে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি বেত্রাওয়াতি। সেখানে বন্যার পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন—এমন আশায় উদ্ধারকারীরা তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন।
উদ্ধার অভিযানে ধসে পড়া ভবনের বিভিন্ন ফাঁকফোকরও পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোথাও কেউ আটকে থাকলে তার অবস্থান শনাক্ত করতে উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন উপায়ে সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের আওয়াজ বা অন্য কোনো সংকেত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
এর আগে বেত্রাওয়াতি বাজার এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি ভবন থেকে ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকায় মরদেহগুলোর অনেকগুলোতে পচন ধরেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পরও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। কয়েক দিন আগেও নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ভেতর আটকে থাকা কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটলেও চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠের মতো জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকাজে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কেউ আটকে থাকতে পারেন—এই সম্ভাবনা সামনে রেখে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।



