রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিএনএ পরীক্ষায় মিল, ধর্ষণের শিকারে জন্ম নেয়া শিশুর বাবা সেই মাদ্রাসারি শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

ডিএনএ পরীক্ষায় মিল, ধর্ষণের শিকারে জন্ম নেয়া শিশুর বাবা সেই মাদ্রাসারি শিক্ষক

সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার এক শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক পিতা হিসেবে মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর শনাক্ত হয়েছেন। নবজাতক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ পরীক্ষায় ৯৯ দশমিক ৯৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে।

নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মো. নুরুল কবীর রুবেল সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের করা ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছেছে।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি এলাকার একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়। গত ১৮ এপ্রিল চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করা হলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। এরপর ২৩ এপ্রিল তার মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য দেন তিনি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৬ মে ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর আদালতের অনুমতিতে গত ১৭ মে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে গত ২ জুলাই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা নবজাতকের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

দুই পক্ষের নমুনা পরীক্ষার পর পাওয়া প্রতিবেদনে ৯৯ দশমিক ৯৯৯ শতাংশ মিল নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।

সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মামলাটিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পুলিশ শিগগিরই তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!