প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে জাকির নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ভাই মো. শাকিল ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় জাকিরের মৃত্যু হলেও ঘটনার পর বেশ কিছু সময় বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাকিয়ারচর পশ্চিমপাড়ার নবী মেম্বারের বাড়ির এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিষয় নিয়ে জাকির ও তাঁর বড় ভাই শাকিলের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় জাকিরকে কয়েকজন মিলে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, জাকিরের মাথার পেছনে ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া দুই পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং কপালের মাঝখানে কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব আঘাতের কারণে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির আহত ও অচেতন হয়ে পড়ার পরও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি। পরে একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে স্থানীয় চৌকিদার মোকলেসকে ঘটনা সম্পর্কে জানানো হয়। তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জাকিরের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম শুরু করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত জাকির মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর আগে একাধিকবার বিরোধ হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার দিন টাকা-পয়সা ও মাদক কারবারসংক্রান্ত কোনো বিষয় থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহতের বড় ভাই মো. শাকিল কাকিয়ারচর পশ্চিমপাড়ার আইয়ুব আলীর ছেলে। জাকিরকে মারধরের ঘটনায় শাকিলের সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুরজিৎ বড়ুয়া জানান, ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



