রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাবনায় আড়াই হাজার লিটার ভেজাল দুধ জব্দ, খামার সিলগালা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

পাবনায় আড়াই হাজার লিটার ভেজাল দুধ জব্দ, খামার সিলগালা

ছবি: সংগৃহীত

পাবনার সাঁথিয়ায় ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে একটি দুগ্ধ খামারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দুধ ও ক্ষতিকর উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার লিটার ভেজাল দুধ এবং দুই ব্যারেল জেলিসদৃশ পদার্থ উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা দুধ ও ওই উপকরণ ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় খামারটির মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রোববার ভোরে সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, খামারটিতে দুধের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এর পরিমাণ ও ঘনত্ব কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ কাজে জেলিজাতীয় পদার্থ ব্যবহারের পাশাপাশি দুধ দীর্ঘ সময় ভালো রাখার উদ্দেশ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া যায়।

অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ প্রস্তুত করা দুধের পাশাপাশি দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাধারণত দুধ মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় দুধের ব্যবহার বেশি থাকায় এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, খামারটিতে দুধের পরিমাণ ও ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য জেলি ব্যবহার করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে দুধকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখার উদ্দেশ্যে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব উপাদান ব্যবহার করে দুধের স্বাভাবিক গুণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযানে উঠে আসে।

অভিযানে উদ্ধার করা দুই হাজার ৫০০ লিটার দুধ মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ায় তা ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। একইভাবে উদ্ধার হওয়া দুই ব্যারেল ক্ষতিকর জেলিও নষ্ট করা হয়েছে। এতে বাজারে ওই দুধ সরবরাহের সম্ভাবনা বন্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযানের পর খামারের মালিক মো. মানিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে খামারটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযানে জেলা পর্যায়ের স্যানিটারি পরিদর্শক এবং আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন। খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধে অননুমোদিত কোনো রাসায়নিক বা কৃত্রিম উপাদান মেশানো হলে তা মানুষের শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত এ ধরনের দূষিত খাদ্য গ্রহণ করলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও পরিপাকতন্ত্র এখনো পুরোপুরি পরিণত নয়।

ভেজাল খাদ্য শুধু একজন ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না, এর প্রভাব পুরো সমাজের ওপর পড়ে। তাই দুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কঠোর নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সাঁথিয়ার এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ ধরা পড়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যে ভেজাল বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি খামার মালিক ও ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!