প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
বগুড়ার ধুনটে মাদ্রাসাপড়ুয়া এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার বাবাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত বাবা চিকিৎসা শেষে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ধুনট সদর ইউনিয়নের চালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেনের ১১ বছর বয়সী মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। গত ২৪ আগস্ট দুপুরে ওই কিশোরী প্রতিবেশী আব্দুল আলীমের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় আব্দুল আলীম তার হাত ধরে জোর করে বাড়ির ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় কিশোরী চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে বাবাকে বিষয়টি জানায় সে। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শুনে ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অবহিত করেন এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হওয়ার পর আব্দুল আলীম ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে কয়েক দিন পর ছানোয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছানোয়ার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট ব্যক্তিগত কাজে তিনি চালাপাড়া সোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যান। সেখানে আব্দুল আলীম ও তার কয়েকজন সহযোগী তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়িতে ফেরেন।
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে থানায় গিয়ে আব্দুল আলীমসহ চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ছানোয়ার হোসেন। অভিযোগে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল আলীম। তার দাবি, ছানোয়ার হোসেনের সঙ্গে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। ওই কিশোরীর হাত ধরে টানাটানি বা তাকে বাড়ির ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের উত্ত্যক্ত বা হয়রানির মতো ঘটনা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ তৈরি হলে তা অনেক সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়। এ ধরনের ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



