প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত ফিরোজা বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ফিরোজা বেগমের বয়স ৬০ বছর।
নিহত নারী শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তবে অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের গোপীনাথপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি কাজে তার নির্বাচনী এলাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। এ সময় রাস্তা পার হওয়ার সময় ফিরোজা বেগম গাড়িটির সামনে পড়ে যান। তাকে ধাক্কা দেওয়ার পর সরকারি গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীও ছিলেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী নিজেও আহত হন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আহত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরের কিছু আগে তার মৃত্যু হয়।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান দুর্ঘটনা ও বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর নিহতের মরদেহ হাসপাতালের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ হস্তান্তর ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলীও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং গাড়িটির গতিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ি চলাচলের সময় সড়কে নিরাপত্তা ও সতর্কতা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।



