রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিদল অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণ তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া হয়নি; বরং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, আমন্ত্রণের ধরন এবং বর্তমান কূটনৈতিক বাস্তবতার বিবেচনায় সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ভারত সফরের বিষয়ে আগ্রহী। তবে এ সফরের জন্য উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুকূল হলে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যেতে পারেন বলে জানান তিনি।

দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা থাকলেও সরকার পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্পর্কের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরও সেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ব্রিকস হলো উদীয়মান অর্থনীতির কয়েকটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জোট। বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার জন্য এই জোট গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে ব্রিকসের বিভিন্ন বৈঠক ও সম্মেলনে কোনো দেশের অংশগ্রহণকে কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও এবারের সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের জন্য আলাদা গুরুত্ব তৈরি করেছে। তবে আমন্ত্রণ পাওয়া এবং সম্মেলনে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি এক নয়—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!