প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
ইতালিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। পরিবারের সদস্যসহ এ সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে শ্রমবাজার, দক্ষ জনশক্তি, ভাষা শিক্ষা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। দেশটিতে থাকা প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশির বড় একটি অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের বাসিন্দা। এ অবস্থায় দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অবৈধভাবে বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঝুঁকি থাকায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং ইতালির শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে ইতালি থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের একটি নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশি স্থপতিদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ইতালিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্দিষ্ট তালিকা পাঠানো হলে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের প্রশিক্ষণের জন্য ইতালি সফরে পাঠানো হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য অপচয় রোধেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতালির মিলান শহরে খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে পরিচালিত কার্যক্রমের আদলে বাংলাদেশেও কাজ করার বিষয়ে ইতালি আগ্রহ দেখিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
অন্যদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। দেশটির কাছে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে ইতালির।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইতালির শ্রমবাজারে দেশের কর্মীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



