প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
ইতালির রাজধানী রোমে সাবেক প্রেমিকা, তার স্বামী ও পাঁচ বছরের কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রায় ২২ বছর আগে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর থেকেই তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর ইতালিতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে ওই পরিবারের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় পুলিশ ও স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে আরজু আক্তারের একসময় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শাহাদাতের বিয়ের প্রস্তাব আরজুর পরিবার গ্রহণ না করে তাকে ইতালিপ্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর আরজু স্বামীর সঙ্গে ইতালিতে বসবাস শুরু করেন। তাদের ঘরে তিন সন্তান জন্ম নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, আরজুর বিয়ে মেনে নিতে পারেননি শাহাদাত। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ওই পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতেন এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি ইংল্যান্ডে যান। পরে সেখান থেকে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করে রোমে অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।
রোমে গিয়ে নিজেকে দূরসম্পর্কের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে শাহাদাত আরজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেন। একপর্যায়ে পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করে তিনি তাদের বাসায় যাতায়াতের সুযোগ পান।
গত ২৬ জুন রাতে ওই বাসায় আরজু ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে আরিশা থাকাকালে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। প্রথমে আরজুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। মায়ের চিৎকার শুনে শিশুটি এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করে শাহাদাত সেখানে অবস্থান করতে থাকেন।
পরে আরজুর স্বামী কামাল উদ্দিন বাবুল কাজ শেষে বাসায় ফিরলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
এরপর পরিবারের বড় ছেলে ২০ বছর বয়সী আয়ান বাসায় ফিরে শাহাদাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। তাকে জানানো হয়, তার মা-বাবা ঘুমিয়ে আছেন। তবে ঘরের দিকে যাওয়ার সময় খাটের নিচ থেকে ছোট বোনের পা বেরিয়ে থাকতে দেখে আয়ানের সন্দেহ হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে শাহাদাত তার ওপরও হামলা চালান। আয়ান কোনোভাবে হামলা থেকে রক্ষা পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে প্রতিবেশীদের সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। তার চিৎকার শুনে শাহাদাত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এরপর থেকে শাহাদাতের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি ইংল্যান্ড কিংবা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কাও তদন্তকারীদের মধ্যে রয়েছে।
এ ঘটনায় ইতালির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধ, পরিকল্পনা এবং অভিযুক্তের মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা শাহাদাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করছেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তার দেওয়া একটি রহস্যময় বার্তাও তদন্তের আওতায় এসেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর তার নিজের জীবন নিয়ে কোনো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শাহাদাতকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে।



