প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ভেনিসের পিয়াচ্ছা লে রোমা থানায় গিয়ে অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন অভিনেত্রী। এ সময় কয়েক ঘণ্টা থানায় অবস্থান করেন তিনি।
এর আগে সোমবার রাতে ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থানের সময় একদল ব্যক্তির দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন বাঁধন। ঘটনার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচারে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করেন। তাঁর মুঠোফোনও হাত থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি জড়িত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কারণে তাকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি এখন ইতালীয় পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে।
ঘটনার পর বাঁধন স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি ভেনিস ছাড়বেন না। পরে মঙ্গলবার তিনি জানান, ইতালিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সহযোগিতা পেয়েছেন। তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই থানায় গিয়ে অভিযোগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। ঘটনার সময় ধারণ করা বিভিন্ন দৃশ্যের ভিডিওচিত্রও তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাঁধনের অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ইতালিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিলানে অবস্থিত কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। ইতালীয় পুলিশও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইতালিতে অবস্থান করছেন বাঁধন। তাঁর অভিনীত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী উপলক্ষে তিনি সেখানে গিয়েছেন। উৎসবের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে থাকা অবস্থায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা আয়োজকদের কাছেও গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার পর তার নিরাপত্তার বিষয়েও সংশ্লিষ্টরা সতর্ক হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাঁধন জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় পাওয়া প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং এরই মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব তথ্য তদন্তে কাজে লাগবে বলে আশা করছেন তিনি। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আবারও ইতালিতে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন অভিনেত্রী।
ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। বাঁধনের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার বিষয়ে ইতালিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়টি ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ দায়েরের পর এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন বাঁধন। কারা এই ঘটনায় জড়িত এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আইনগত ভিত্তি ও পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে ইতালিতে গিয়ে হেনস্তার অভিযোগ ওঠার পর এবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ায় গড়াল। বাঁধনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র এবং দায়ীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।



