প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া অভিনেতা আরশ খান এখন নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিতে আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে শব্দটির যে মর্যাদা, সততা ও নিরপেক্ষতা থাকার কথা ছিল, তা অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে শব্দটিকে ব্যবহার করায় এর গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় একটি নাটকের শুটিংয়ের ফাঁকে সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই অভিনেতা। জুলাইয়ের আন্দোলনে নিজের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি রাজপথে নেমেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন হলে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে আন্দোলনের সময় রাজপথে থাকা এবং পরবর্তী সময়ে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য দেখছেন আরশ। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে শব্দটি এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যাতে এর সঙ্গে যুক্ত সম্মান ও নিরপেক্ষতার জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিচয়কে ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনীতির সঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে আরশ খান বলেন, আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে একাত্ম মনে করেন না তিনি। তাঁর কাছে মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের প্রশ্নটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মব সংস্কৃতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। বিশেষ করে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা বিরোধ দেখা দিলে তার সমাধান প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
আরশের মতে, একটি রাষ্ট্রে আইন ও বিচারব্যবস্থা থাকার পরও যদি মানুষ নিজেরাই বিচার করার চেষ্টা করে, তাহলে তা সমাজে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে জনতাকে সংঘবদ্ধ করে কারও ওপর হামলা বা হেনস্তার পথ বেছে নেওয়া উচিত নয়।
রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব নিয়েও নিজের উদ্বেগের কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, মানুষ এখন অনেক ক্ষেত্রে নিজের মানবিক পরিচয়ের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে মতের ভিন্নতা থাকলেই একে অন্যের প্রতি সহনশীলতা হারিয়ে ফেলছে।
বিশেষ করে নারীদের প্রকাশ্যে হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আরশ খান বলেন, কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে এমন আচরণ সমর্থন করা যায় না। ব্যক্তি হিসেবে কারও রাজনৈতিক মত, পরিচয় কিংবা অবস্থান ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু তার কারণে মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অধিকার কারও নেই।
জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আরশ খান মূলত আইন, মানবিকতা ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্দোলনের চেতনা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের প্রতি সম্মান এবং আইনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।



