রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

ছয় দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ

ছবিঃ সংগৃহীত

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্ঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। আয়োজকদের দাবি, এ কর্মসূচিতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেন জোটের নেতারা। বৈঠকে কর্মসূচির সার্বিক পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা এবং পথে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। এরপর নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জের কাচপুর সেতু-সংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল এবং মিরসরাইয়ে এসব পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। লংমার্চের শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছেন তারা। লংমার্চ সফল করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অংশগ্রহণকারীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। বিরোধী দলের বড় এই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা।

লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা চান না। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি পালন করাই তাদের লক্ষ্য।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের দাবি, জনগণের রায়কে যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে এবং ১১ দলের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি মেনে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচি সরকার উৎখাতের আন্দোলন নয়। বরং জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিকে সামনে রেখে নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

লংমার্চের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বহরের গাড়ি থেকে নেমে বিভিন্ন পথসভায় যোগ দেবেন না। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই নির্ধারিত স্থানগুলোতে পথসভা পরিচালনা করবেন।

এ ছাড়া লংমার্চের প্রতিটি গাড়িতে নির্দিষ্ট পরিচয়চিহ্ন থাকবে। বহর চলমান অবস্থায় নতুন কোনো গাড়ি মাঝপথে এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। কোনো গাড়ি পরে যুক্ত হলে সেটিকে বহরের সর্বশেষ অংশে অবস্থান করতে হবে। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের কাজে নিয়োজিত সংবাদমাধ্যমের গাড়িগুলোও বহরের সঙ্গে চলাচলের সুযোগ পাবে বলে জানানো হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষ লংমার্চকে স্বাগত জানাবেন। একই সঙ্গে তারা দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি ধৈর্য, সাহস এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

লংমার্চকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও আয়োজকদের পক্ষ থেকে সতর্ক থাকার কথা জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এদিকে লংমার্চের মাধ্যমে ছয় দফা দাবি সরকারের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবারের কর্মসূচিতে বড় ধরনের জনসমাগমের প্রত্যাশা করছেন জোটের নেতারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!