প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু ঘিরে দীর্ঘদিনের রহস্যের তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের আচরণ, কথাবার্তা এবং ঘটনার আগে-পরে তার চলাফেরা বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আদালতে দেওয়া আবেদনে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।
তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তের অংশ। ডনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি এড়িয়ে গেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পুরোপুরি প্রকাশ করেননি।
পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান। পরে ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, সালমান শাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ডনের জানাশোনা ছিল। একই সঙ্গে সালমানের সঙ্গে চলাফেরার সুবাদে মৃত্যুর আগে ও পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতেন বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়ে ডনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে তিনি চেনেন বলে স্বীকার করলেও তাদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেননি। বিশেষ করে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কৌশলী অবস্থান নেন বলে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে।
সিআইডির আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে ডনের বক্তব্য পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসঙ্গতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ঘটনার সময়, তার আগে এবং পরে ডনের আচরণ ও গতিবিধিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করেই তার সংশ্লিষ্টতার সম্ভাব্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থাটি।
তদন্তকারীদের মতে, ডন জিজ্ঞাসাবাদে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে তার কাছ থেকে মামলার প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য বের করার প্রয়োজন রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।
এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডনকে কারাগারে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে সিআইডি। তদন্ত কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বাইরে থাকলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ যাচাই বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মামলার বর্তমান তদন্তের অংশ হিসেবে ডনের আগের বক্তব্য, তার সঙ্গে সালমান শাহর সম্পর্ক, ঘটনার সময়কার অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের সত্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ২৭ আগস্ট আদালত শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বহু বছর ধরে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে। সেই পুরোনো মামলার তদন্তে ডনকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
তবে তদন্ত সংস্থার দাবি করা তথ্য ও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ওপর। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ডনের ভূমিকা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



