প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে দেশে ফেরার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থায় পুরোপুরি স্বাভাবিকতা ফেরেনি বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনেরা। এমনকি পরিচিত অনেক মানুষকে তিনি ঠিকমতো চিনতে পারছেন না এবং কিছু বিষয় মনে রাখতেও সমস্যায় পড়ছেন বলে জানা গেছে।
গত ৩ আগস্ট দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় পর দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর তাঁকে দেখতে চলচ্চিত্র অঙ্গনের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর বাসায় যাচ্ছেন। চিত্রনায়ক আলমগীর, অভিনেত্রী রোজিনা ও শবনমসহ অনেকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন।
তবে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করার সময় কখনো কখনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সহসভাপতি লিটন এরশাদ জানিয়েছেন, ইলিয়াস কাঞ্চনের চলাফেরায় আগের মতো স্বাভাবিকতা নেই। পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে কাউকে চিনতে পারলেও অনেককে আবার চিনতে পারছেন না। একই সঙ্গে কিছু ঘটনা বা বিষয় মনে রাখতেও তাঁর অসুবিধা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
লিটন এরশাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায়ের পর ইলিয়াস কাঞ্চন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। পরে তাঁকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসার ধকল তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন ঘনিষ্ঠজনেরা। চিকিৎসার সময় তাঁকে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির দীর্ঘ পর্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ চিকিৎসার পর তাঁর শরীরে থাকা টিউমারের আকার অনেকটাই ছোট হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এখন চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ হিসেবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।
জানা যায়, গত বছরের শুরুর দিকে ইলিয়াস কাঞ্চনের শরীরে টিউমার শনাক্ত হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসা চলে। এরপর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও করা হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেও তাঁর চিকিৎসা এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আগামী ১২ আগস্ট আবারও লন্ডনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশে ফেরার পর প্রিয় অভিনেতাকে ঘিরে সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সবাই তাঁর দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা করছেন।



