প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বের আদলে স্থাপিত ভাস্কর্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব ভাস্কর্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, আলেমদের অবয়ব ব্যবহার করে ভাস্কর্য নির্মাণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, ইসলামি বিধান অনুযায়ী মানুষের অবয়বের ভাস্কর্য নির্মাণ নিষিদ্ধ। তাই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া আলেমদের স্মরণে এমন ভাস্কর্য স্থাপন তাদের ত্যাগ ও আদর্শের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতে ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হেফাজতের বহু নেতাকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবয়বেই এখন ভাস্কর্য নির্মাণ করাকে তারা অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিহাসমূলক বলে উল্লেখ করেন।
হেফাজতের নেতারা আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন এবং নানা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেই স্মৃতি রক্ষার কোনো উদ্যোগ যেন দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির সঙ্গে সংঘাত তৈরি না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।
ভাস্কর্যের পরিবর্তে জুলাইয়ের আন্দোলনের লিখিত ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রামাণ্য নথি জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজত।
একই সঙ্গে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে যাচাই করে জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
হেফাজতের শীর্ষ নেতারা অবিলম্বে বিতর্কিত ভাস্কর্যগুলো অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা করা হলে আলেম সমাজ বিষয়টি নীরবে মেনে নেবে না।



