প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
বিজ্ঞপ্তির আওতায় থাকা অপর ছয় আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে নির্ধারিত দিনে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। এ ছাড়া আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম ও কর্নেল আনোয়ার লতিফকেও আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ সাত আসামি নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের হাজির করার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আওতায় আসে।



