প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ঘরের দরজা বন্ধ করে এক গৃহবধূ অচেতন হয়ে পড়ার পর পাশে থাকা দুই মাসের শিশুর একটানা কান্নায় বিপদের বিষয়টি টের পান প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে। দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান ওই গৃহবধূ ও তার শিশুসন্তান।
মঙ্গলবার রাতে পেকুয়া পৌরসভার ডিসি সড়ক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূর নাম স্মৃতি কর্মকার, বয়স ২৬ বছর। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের পর তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। এরপর তিনি গভীর অচেতন অবস্থায় চলে যান।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর ঘরের ভেতর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। বিকেলের দিকে কান্নার শব্দ অব্যাহত থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। তারা ঘরের দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। বিষয়টি পরে স্মৃতির স্বামী পলাশ কর্মকারকে জানানো হয়।
পলাশ ঘটনাস্থলে এসে ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর তিনি বিষয়টি পেকুয়া থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ওই ভাড়া বাসায় পৌঁছে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশও ঘরের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পায়।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় স্মৃতিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার পাশেই ছিল দুই মাস বয়সী শিশুটি। পুলিশ দ্রুত মা ও শিশুকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসে।
পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক উগ্যজাই মারমার নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে প্রথমে শিশুটিকে তার বাবার কাছে দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় থাকা স্মৃতিকে দ্রুত পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারের সময় গৃহবধূ অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তবে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসা পাওয়ায় পরবর্তীতে মা ও সন্তান দুজনই প্রাণে বেঁচে যান। শিশুটির অবস্থাও পরে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্মৃতি কর্মকার উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি মৃত মনমোহন কর্মকারের মেয়ে। স্বামী পলাশ কর্মকারের সঙ্গে পেকুয়া পৌরসভার ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পলাশ পেকুয়া বাজারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা খুলে মা ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে গৃহবধূকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশের উদ্ধার তৎপরতার একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ঘরের দরজা খুলে পুলিশ সদস্যরা অচেতন নারী ও শিশুটিকে বের করে আনছেন।
ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় সাড়া না দিলে বা ঘর থেকে অস্বাভাবিক কোনো শব্দ শুনতে পেলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘরের ভেতরে ছোট শিশু থাকলে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ঘটনায় গৃহবধূর পারিবারিক বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও ঘটনার পেছনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।



