প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক আইফোন ও বহনযোগ্য কম্পিউটারসহ চীন ও তাইওয়ানের ছয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে প্রায় দুই হাজার আইফোনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বহনযোগ্য কম্পিউটার এবং কিছু যোগাযোগ সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার শহরের সি-প্যালেস নামের একটি আবাসিক হোটেলে এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রামু থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের সূত্র ধরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে চীন ও তাইওয়ানের ছয় নাগরিককে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তাইওয়ানের নাগরিক ওয়েই চিং ওয়েন এবং চীনের নাগরিক জু ইয়াংফান, ইয়ান চ্যাংশেং, জু হাইয়াং, উ জিয়ান জিওন ও জাং জেমিং রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০টির মতো বহনযোগ্য কম্পিউটার পাওয়া গেছে। এসব সরঞ্জামের পাশাপাশি বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ যন্ত্রের মতো দেখতে কিছু সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের বিষয়টি রয়েছে। তবে মামলার নম্বর এবং অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগটি নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছিল। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই কক্সবাজার শহরের হোটেলটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, কক্সবাজারে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে আরও কিছু বিদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। মেরিন ড্রাইভ এলাকার দুটি হোটেল ভাড়া নিয়ে বিপুলসংখ্যক চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক অবস্থান করছেন বলেও ওই সূত্রের দাবি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের কথিত সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে।
যে হোটেলে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে চীনা নাগরিকদের একটি দল গত ২৬ আগস্ট অবস্থান নেয় বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় ওই দলের কয়েকজনকে আটক করা হয়। তবে তাঁরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং কক্সবাজারে অবস্থান করে কী ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন, সে বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি।
বিপুলসংখ্যক আইফোন ও কম্পিউটারসহ বিদেশি নাগরিক আটকের ঘটনায় কক্সবাজারে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক যন্ত্রপাতি কেন তাঁদের কাছে ছিল এবং সেগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হতো, তা তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলোর ব্যবহার ও উৎস যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, থাকলে তাঁদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।



