প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, দুই হাজার চব্বিশ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্নের মধ্য দিয়েই দেশের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
রোববার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই মাসের সেই সহিংস ঘটনা ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং দেশের ইতিহাসে একটি বেদনাবহ অধ্যায়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই নিহতদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাংবিধানিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদেশে অবস্থান করে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার সমালোচনা করে নুর বলেন, যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা চাইলে যে দেশে রয়েছেন, সেই দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু বিদেশে বসে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সেই মতপার্থক্য যেন আইন, সংবিধান এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার সীমার মধ্যে থাকে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সহিংসতা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনো অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয়।
মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। জনসেবার মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মোসা. মারিয়া আক্তার, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



