রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পরদিন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় তিনি সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধন করেন। জাতিসংঘের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত একজন কূটনীতিক জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল অঙ্গের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বৈঠকে তাঁর নতুন দায়িত্ব, সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

গত ২ জুন জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের ভোটে খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। গোপন ব্যালটে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন। খলিলুর রহমান পান ৯৯ ভোট, আর কাকোরিস পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোট দেওয়া হয়েছিল।

আঞ্চলিক পালাবদলের নীতির আওতায় এবার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ নির্ধারিত ছিল। সেই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে খলিলুর রহমান নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদ শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এবং ৮১তম অধিবেশন চলবে ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বাংলাদেশ ফিরল। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ফলে এবারের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

নতুন দায়িত্বে খলিলুর রহমানকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, মানবাধিকার, উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসন এবং জাতিসংঘের সংস্কার। অধিবেশনের মূল ভাবনা হলো আস্থা পুনর্গঠন ও পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করে তোলা।

খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছর জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও সাধারণ পরিষদের সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাবে।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই অধিবেশন পরিচালনার সুযোগ দেশের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!