প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির কোনোটিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পর্যালোচনার কাজ শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এবং পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নীতিতে এগোতে চায় সরকার। কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে দেশের অধিকার বা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হোক—এমন অবস্থান সরকার গ্রহণ করবে না।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা করা হয়েছিল, সেগুলো এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতার বিষয় পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এসব নথির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে দেশের জন্য কোনটি কতটা উপকারী এবং কোথাও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
চিফ হুইপের ভাষ্য, বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো ব্যবস্থা পাওয়া গেলে সেটি বহাল রাখার প্রশ্ন নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, পরিবর্তন কিংবা বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
দেশের স্বার্থের প্রসঙ্গ তুলে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের একটি ব্যবস্থার উদাহরণ দেন। তাঁর দাবি, একই সময়ে বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ বন্দরে এলে বন্ধুদেশের জাহাজ আগে খালাসের মতো অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই ধরনের আরও কিছু চুক্তি ও ব্যবস্থার বিষয়ে সরকার পর্যালোচনা করছে বলেও জানান।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কারও সঙ্গে বৈরিতা চায় না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে কোনোভাবেই দ্বিতীয় অবস্থানে রাখা হবে না। জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে আলোচনায় ব্রিকস সম্মেলনের প্রসঙ্গও আসে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগের সময়ে করা বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার কার্যকারিতা এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
চুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই শেষে কোনগুলো বহাল থাকবে, কোনগুলো সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে কিংবা কোনোটি বাতিল করা হবে কি না—এসব বিষয়ে সরকার পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।



