রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তোমরা লেখবা, আমরা তোমাদের পিটাব — সাংবাদিকদের মারধরের পর যুবদল নেতার হুমকি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

তোমরা লেখবা, আমরা তোমাদের পিটাব — সাংবাদিকদের মারধরের পর যুবদল নেতার হুমকি

সংগৃহীত

শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে এক সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন বিধান মজুমদার অনি, জাহিদ হাসান রনি ও বরকত উল্লাহ। স্থানীয় লোকজন তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা বাড়ি ফেরেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহের সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রথমে বিধান মজুমদার অনির ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। কিছু সময় পর ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে জাহিদ হাসান রনি ও বরকত উল্লাহকেও মারধর করা হয়।

ঘটনার পেছনে জেলা প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কথা জানা গেছে। সম্প্রতি কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এর পরদিন জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

সাংবাদিক জাহিদ হাসান রনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাকে মারধরের পাশাপাশি পরিচয়পত্র ও মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। তার সংগ্রহ করা দৃশ্য ধারণের তথ্য মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বিধান মজুমদার অনি জানান, দায়িত্ব পালনের সময় আকস্মিকভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। কয়েকজনের সহায়তায় তিনি কোনোভাবে সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে হামলার অভিযোগ ওঠার পর আরিফুজ্জামান মোল্লার সঙ্গে এক সংবাদকর্মীর মুঠোফোনে কথোপকথনের বিষয়টি সামনে এসেছে। সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিসূচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আইনগত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

শরীয়তপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাম্প্রতিক কর্মসূচির প্রতিবাদেই তাদের পক্ষ থেকে সমাবেশ করা হয়েছিল।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!