প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির মাংস বণ্টন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঈদের নামাজ আদায় শুরুর আগেই শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। এতে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই দুটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীতে বিভক্ত। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন কামরুজ্জামান মোল্লা, অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর।
প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির মাংসের একটি অংশ গ্রামের অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বণ্টনের প্রস্তুতি ছিল। তবে এই মাংস কেন্দ্রীয়ভাবে মসজিদে একত্রিত করে বিতরণ করা হবে, নাকি প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বিতরণ করবেন—এই বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। ঈদের নামাজ শুরুর প্রাক্কালে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে ঈদের জামাত আর অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় উত্তেজনা চলে। এতে গ্রামজুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষ্য, পবিত্র ঈদের মতো একটি ধর্মীয় ও আনন্দঘন দিনে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা কারও কাম্য হতে পারে না। বিশেষ করে নামাজ ও কোরবানি শুরুর আগেই এমন সংঘাত স্থানীয়দের হতাশ করেছে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, পারস্পরিক আলোচনা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান সম্ভব ছিল। ঈদের দিনে বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



