প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
কখনও নিজেকে ৪০০ বছর বয়সী ‘জিনের বাদশা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন, আবার কখনও অনলাইনে বিনিয়োগ করে বেশি লাভের প্রলোভন দেখাতেন। এমন কৌশলে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ তথ্য জানায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন মমতাজ বেগম নামে এক নারী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল হামিদ একটি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত একটি বিনিয়োগভিত্তিক অ্যাপে অর্থ বিনিয়োগ করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রচার করেন। তার কথায় বিশ্বাস করে বাদীর মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন ব্যক্তি সেখানে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রথমে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে আরেকটি নতুন অ্যাপের মাধ্যমে অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর আগের অ্যাপ অকার্যকর হয়ে গেলে নতুন পরিকল্পনার কথা বলে আরও ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একাধিক দল অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হামিদ প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে একটি ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে অ্যাপ চালু করে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে বেকার যুবকসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। কিছুদিন পর সেই অ্যাপ বন্ধ করে নতুন অ্যাপ চালুর মাধ্যমে আবারও বিনিয়োগের আহ্বান জানাতেন।
পুলিশের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি একটি টেলিগ্রাম পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ বলে পরিচয় দিতেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।
মামলার বাদী মমতাজ বেগম বলেন, তার দলের প্রায় ১০০ জন সদস্য মোট ২১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে অ্যাপ অকার্যকর হয়ে গেলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



