প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের বড় পর্দায় প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রনেতার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ অভিযোগ তুলেছে যে, হল সংসদের এক নেতাকে প্রকাশ্যে অপমান ও হেনস্তা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ উপভোগ করতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের মাঠে জড়ো হন। সেখানে বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। খেলা চলাকালে নির্ধারিত দর্শকসারিতে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
অভিযোগকারী ছাত্রনেতার দাবি, তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে খেলা দেখতে মাঠে যান এবং আয়োজকদের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে বসেন। কিছু সময় পর কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার কাছে এসে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ জানান। এ সময় কারণ জানতে চাইলে কথোপকথনের একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তিনি অসম্মানজনক আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রনেতা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ধরনের শারীরিক স্পর্শ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি। বরং অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার স্বার্থেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে অন্য স্থানে বসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানে বসার কারণে পেছনের সারির দর্শকদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত অংশে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও প্রয়োজন ছিল।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি জানান, বিষয়টি মূলত বসার স্থান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্কের কারণে সাময়িকভাবে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই উপস্থিত দায়িত্বশীলরা হস্তক্ষেপ করেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরও বলেন, খেলা উপভোগ করতে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মাঠের পরিবেশ শান্ত রাখা জরুরি ছিল। তাই তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেতে দেখা গেছে। কেউ অভিযোগকারীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ পুরো বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে মনে করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, বিষয়টি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এবং এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বড় কোনো অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।



