প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
রাজশাহী অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট ১৩৯ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯৪ জনে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, সামাজিক সংকোচ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোর কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজশাহীতে শনাক্ত হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ পুরুষ। আক্রান্তদের মধ্যে বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয় শ্রেণির মানুষ রয়েছেন। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সংক্রমণের হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা সিরাজগঞ্জে। এছাড়া বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংখ্যা কেবল শনাক্ত হওয়া রোগীদের হিসাব। বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
চিকিৎসকদের মতে, এইচআইভি শুধু যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেই ছড়ায় না। পরীক্ষাবিহীন রক্ত গ্রহণ, একই সূঁচ বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার, মাদক গ্রহণে ব্যবহৃত উপকরণ ভাগাভাগি এবং মা থেকে সন্তানের শরীরেও এ ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। ফলে রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক কুসংস্কার ও লজ্জার কারণে অনেকেই পরীক্ষা করাতে চান না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তারা বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে এবং তাদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কাউন্সেলিং সেবাও দেওয়া হচ্ছে। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ আচরণ নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।



