প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
পাবনার আতাইকুলা এলাকায় ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এক কিশোরীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের উদ্দেশে নিয়ে আসছিলেন স্বজনরা। সকাল প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে আতাইকুলা থানার সরাডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (২৮) এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা বুলু খাতুন (৫৮)। দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা আরও চারজন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করা হয়, যাতে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল পুনরায় চালু করা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাত্রীবাহী বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও তাঁর সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি অথবা অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।



