প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তপশিল এখনো ঘোষণা না হলেও বন্দরনগরীতে নির্বাচনী আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। ফলে নগরজুড়ে নির্বাচনী আলোচনা দিন দিন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অভাবে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে এবারের নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে নাগরিক সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।
এদিকে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা তৈরি, দাবি-আপত্তি গ্রহণ এবং যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণা করলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে পুনরায় জনগণের রায় নেওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমেই নগর পরিচালনা হওয়া উচিত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যদিকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও এখনো কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।
নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডেও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় সমস্যার সমাধান, নাগরিক সেবা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তপশিল ঘোষণার আগেই যেভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন, তাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর একটি। এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের তপশিল ঘোষণার দিকে, যার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।



