প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলসংলগ্ন এলাকায় দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ধীরে ধীরে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হতে পারে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে অবস্থান না করে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এর প্রভাবে সাগরের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই জেলে, নৌযানচালক এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ আবহাওয়ার তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈরী আবহাওয়ার সময় অসতর্কভাবে গভীর সাগরে অবস্থান করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া সমুদ্রে যাত্রা এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার স্থানীয় প্রশাসনকেও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং নদী ও মোহনায় ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। তাই উপকূলবাসী, জেলে এবং নৌযান সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



