রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে, ক্যানসার গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন চাঁদপুরের আবু আলী সিনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

বিশ্বমঞ্চে, ক্যানসার গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন চাঁদপুরের আবু আলী সিনা

সংগৃহীত

ক্যানসার দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার গবেষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন চাঁদপুরের কৃতী গবেষক ড. আবু আলী সিনা। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় অসামান্য অবদান, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অস্ট্রেলিয়ার একটি মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা অনুদান অর্জন করেছেন। এই অনুদানের অর্থমূল্য প্রায় ১৬ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটিরও বেশি টাকার সমপরিমাণ।

জানা গেছে, এই অর্থায়নের মাধ্যমে তার নেতৃত্বাধীন গবেষণাগারে ক্যানসার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি উন্নয়নে বিস্তৃত গবেষণা পরিচালিত হবে। বিশেষ করে রক্তভিত্তিক নতুন প্রজন্মের জীববৈজ্ঞানিক সূচক শনাক্তকরণ, সূক্ষ্ম প্রযুক্তিনির্ভর রোগ নির্ণয় পদ্ধতির উন্নয়ন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্তের কার্যকর উপায় উদ্ভাবনে এই প্রকল্প গুরুত্ব পাবে। গবেষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে রোগটি আরও দ্রুত, সহজ ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা চিকিৎসা শুরু করার সময় কমিয়ে রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়াবে।

চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা ড. আবু আলী সিনা দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন। পরে উচ্চতর গবেষণার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং সেখানেই ক্যানসার গবেষণায় নিজেকে নিবেদিত করেন। বর্তমানে তিনি সিডনিভিত্তিক একটি গবেষণাগারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় ড. আবু আলী সিনা বলেন, এটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে পাশে থাকা সহকর্মী, শিক্ষার্থী, গবেষণা-সহযোগী, পরামর্শদাতা এবং পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এমন সাফল্য সম্ভব হতো না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গবেষণাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন অর্থায়নের ফলে গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি নতুন গবেষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে গবেষণার ফল বাস্তব চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রয়োগের পথও আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জন শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গবেষকদের দক্ষতা, মেধা ও সক্ষমতার উজ্জ্বল স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!